এ্যাডেনিয়াম মিডিয়া কিভাবে বানাবেন এবং লাগাবেন?

এ্যাডেনিয়াম মিডিয়া কিভাবে বানাবেন এবং লাগাবেন?

এ্যাডেনিয়াম মিডিয়া নিয়ে নতুনদের মনে প্রশ্নের কমতি নেই। আমরা এটা সম্পর্কে আজকে আলোচনা করব।

এডেনিয়াম এর জন্য মাটি/ মিডিয়া তৈরি :
আগের পোস্টেও আমরা এই কথাটাই শেয়ার করেছি। এটা একেকজন একেক ভাবে করে থাকে। কোন ফিক্সড নিয়ম নেই। তবে কিছু ফ্যাক্টর মাথায় রাখা উচিত। আজ খুব সহজ ভাবে একটা প্রসেস বলছি। এভাবে মাটি বানালে গাছ খুব ভাল না হোক, খারাপ হবে না। বিশেষত যারা নতুন বাগান করছেন তাদের জন্য এটা খুব সহজ হবে। খুব কম উপাদান ব্যবহার করে এটা তৈরী করা যায়, তাই এটি সাশ্রয়ী এবং ঝামেলাহীন। আসুন, শুরু করা যাক।

৬০% – ৭০% ডিনিউট্রিশন ও ৩০% -৪০% নিউট্রিশন আইটেম দিয়ে মিডিয়া তৈরি করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, কোন ভাবেই মিডিয়া কমপ্যাক্ট হওয়া যাবে না। কোন ভাবেই মিডিয়াতে যেন পানি না জমে থাকে, সেটা খেয়াল রাখতে হবে। টবে পানি দিলে ৫-১০ সেকেন্ড সময়ে যেন পানি ড্রেনেজ হয়ে যায়, সেটা খেয়াল রাখতে হবে। দেরি না করে পুরো প্রসেসটা জেনে নেই।

কোন কোন মিডিয়া কি পরিমানে দিতে হবে?
আমি যেই পদ্ধতিতে মিডিয়া বানাই, সেটা এখানে উল্ল্যেখ করা হল।

  •  মোটা লাল বালু: ৫৫-৬০%,
  • পাতাপচা ২৫-৩০%,
  • বাকি ১৫-২০% আইটেম হিসেবে থাকে: ভার্মি কম্পোস্ট, ছোট কয়লা, ইটের রাবিশ, ধানের চিটা, কোকোপিট (অবশ্যই প্রসেস করা বা পুরাতন হতে হবে)।
     অল্প পরিমানে চুনের গুড়া, ছত্রাকনাশক, নীমের খৈল।
  • মিডিয়া তৈরির সময় কোন ধরনের কেমিকেল ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। ভার্মি কম্পোস্ট এবং পাতা পচায় যদি ট্রাইকোডার্মা দেওয়া থাকে, তাহলে কোন ধরনের ছত্রাকনাশক এবং চুন ব্যবহার করবেন না। 

উপরের আইটেম গুলো ভালো ভাবে মিশিয়ে ১৫-২০ দিন রেখে দিতে হবে। কারন, এতাগুলো আইটেম একত্রে মিশালে ভিতরে গ্যাস তৈরি হয়, যেটা গাছের জন্য ক্ষতিকর। ১৫ -২০ দিন ফেলে রাখলে সেই গ্যাসটা বের হয়ে যায় এবং লাগানোর সময় মিডিয়া ঝরঝরে থাকে।

 এই মিডিয়াতে আমি ওবেসাম এবং এ্যারাবিকাম, সবই লাগাই। আলহামদুলিল্লাহ। রেজাল্ট ভালো।

বিকল্প হিসেবে কখনোই গোবর বা গোবরের গুড়া ব্যবহার করবেন না। এটা দিলে গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ার চান্স অনেক বেশি। পাতাপচা না পেলে ভার্মিকম্পোস্ট সার ব্যবহার করা যেতে পারে। গোবর সার না ব্যবহার করাই উত্তম। এটাতে ছত্রাক আক্রমন বেশি হয়। তবে, পুরাতন গোবর সার দিলে সমস্যা নেই।
অনেকেই হাড়ের গুড়া ব্যবহার করেন। এটা এ্যারাবিকামে দিলে কডেক্স নষ্ট হয়ে গাছ মারা যেতে পারে। আবার, অনেকের মতে, এটা ব্যবহার করলে গাছে মাকড় এর আক্রমণ বেশি হয়।

 ড্রেনেজ ব্যবস্থাঃ প্লাস্টিকের টব ব্যবহার করলে নিচে যতগুলো সম্ভব ছিদ্র করে নেবেন। কোন ভাবেই যেন পানি দাড়াতে না পারে। অন্যান্য টব হলে সাবধানে ছিদ্র করে নিবেন।

 লাগানোর নিয়মঃ যেই পটে লাগাবেন, তার নিচের থেকে ১/৩ বা ১/৪ অংশ মোটা খোয়া বা কোকোচিপ দিয়ে ভর্তি করে নিবেন। এটা পানি ড্রেনেজ হতে সাহায্য করবে। এর উপর কিছু শুকনা পাতা দিয়ে মিডিয়া দিতে হবে। শুকনা পাতা দিলে মিডিয়ার মোটা বালু গুলো কোকোচিপ বা খোয়ার ভিতরে সহজেই চলে আসবে না। এবার মিডিয়াতে খুব আলতো করে গাছটি রেখে চারিদিকে মিডিয়া দিয়ে ভরে দিতে হবে। খুব আলতো করে মিডিয়া চাপ দিয়ে গাছকে আটকিয়ে দিতে হবে। খুব বেশি চাপ দিলে মিডিয়া কমপেক্ট হয়ে যাবে। এতে ভিতরে বাতাস চলাচল কম হবে এবং ফিডিং রুট কম হবে। কডেক্স এর অংশ যতটা সম্ভব বাহিরে রাখতে হবে। তাহলে কডেক্স মোটা হবে। এ্যারাবিকামের ক্ষেত্রে অসমোকট ব্যবহার করলে অনেক ভালো রেজাল্ট পাওয়া যায়।

 কেমন পরিবেশে রাখতে হবেঃ গাছ লাগানোর আগেই সব পাতা ফেলে দিতে হবে। লাগানোর পর মিডিয়াতে ভরপুর পানি দিয়ে ছায়ায় রাখতে হবে। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমানে আলো ও বাতাস চলাচল করে, এমন জায়গায় রাখলে ভালো রেজাল্ট পাওয়া যায়। ৩-৫ দিন পর নতুন পাতা বের হতে শুরু করলে দিনে ৩-৫ ঘন্টা সূর্যের আলো পায়, এমন স্থানে রাখতে হবে। ১০-১৫ দিন পর থেকে পুরোদমে রোদে রাখতে হবে। ভালো রেজাল্ট পেতে হলে রোদের কোন বিকল্প নেই। গরমের সময় প্রয়োজনে ২বার পানি দিতে পারেন। যেহেতু ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো, তাই নিশ্চিন্তে পানি দিতে পারবেন। তবে, বর্ষায় পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে, যদি ভ্যাপসা গরম থাকে, মিডিয়াতে হালকা ময়েশ্চায়র থাকে, তাহলেও পানি দিতে হবে। এতে ছত্রাকের আক্রমন কম হবে।

 গাছের যত্নঃ এ্যাডেনিয়াম গাছে অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন হয় না। বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং শীতে কুয়াশা থেকে রক্ষা করতে পারলেই সারা বছর ফুল পাওয়া যায়।নিয়মিত পানি দেওয়া, রোদে রাখা, প্রুনিং করা, পাতা কাটলে গাছের সেপ সুন্দর থাকে ও প্রচুর ফুল হয়।

 সার বা সাপ্লিমেন্ট প্রয়োগঃ অতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগ করলে গাছ মারা যাবে। বছরে ১বার রিপট করলে গাছের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ হয়ে যাবে। তবে, প্রচুর ফুল হলে, সিডপট থাকলে অবশ্যই বাহির থেকে খাবার দিতে হবে। এনপিকে খুব হালকা করে প্রয়োগ করা যেতে পারে। অসমোকট প্রতি ৪ মাস পর পর টবের চারদিকে ছিটিয়ে দিতে হবে। এছাড়া অন্যান্য সাপ্লিমেন্ট যেমন: ইপসাম সল্ট, সি-হুইড কিছুদিন পর পর প্রয়োগ করা যেতে পারে। বর্ষার সময় ছত্রাকনাশক প্রতি ৭-১০ দিন পর পর প্রয়োগ করতে হবে। বার বার একই ধরনের ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা যাবে না।

শেয়ার করুন

Whatsapp Pinterest